পৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
বারিমণ্ডল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। পৃথিবীতে জনসংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে এবং সম্পদের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। এর জন্য বারিমণ্ডলের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। কারণ বারিমণ্ডলের তলদেশে বৈচিত্র্যপূর্ণ গঠন রয়েছে এবং সেখানে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ।
Related Question
View Allসমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।
পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
চিত্রে উল্লিখিত 'P' ও 'B' চিহ্নিত স্রোত দুটি হলো উত্তর নিরক্ষীয় ও উপসাগরীয় স্রোত
P' ও 'B' স্রোত দুটি উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল দিয়ে প্রবাহিত। এ অঞ্চলের সমুদ্রের স্রোত না হলে উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর এর প্রভাব পড়বে। ফলে বাণিজ্যের উপর এর বিরূপ প্রভাব দেখা দিবে।
নিচে স্রোত দুটির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত: পালতোলা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পণ্য নিয়ে এ
স্রোতের অনুকূলে ইউরোপ হতে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছায়। যদি এ স্রোত প্রতিকূল অবস্থায় থাকতো তাহলে উক্ত পথে জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হতো। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবনতি ঘটতো।
উপসাগরীয় স্রোত: উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো
বার মাস বরফমুক্ত থাকায় জাহাজ চলাচলে সুবিধা হয়। পৃথিবীর পণ্যবাহী জাহাজগুলোর অধিকাংশই এ সমুদ্রপথে ইউরিয়া থেকে আমেরিকা চলাচল করে। এ স্রোতের অনুকূলে জাহাজগুলো কম সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারে। যদি এ স্রোত না থাকতো তবে তা সম্ভব হতো না। ফলে উত্তর আমেরিকার ব্যবসা বাণিজ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তো।
সুতরাং, আলোচনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, উত্তর নিরক্ষীয় ও উপসাগরীয় স্রোতের পানিরাশির আবর্তন ঠিকমতো না হলে পার্শ্ববর্তী এলাকার নৌচলাচল ও বাণিজ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!